কবুতর পালন
টাইমস বাংলা নিউজ২৪.কম নিউজ ডেস্ক: কবুতর গৃহপালিত পোষা পাখিদের মধ্যে অন্যতম একটি। সেই প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ কবুতর পালন করে আসছে অনেক কারনে। যেমন:- সুস্বাদু মাংস উৎপাদন,সংবাদ প্রেরণ ও শখের জন্য কবুতর পালন।বর্তমানে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অনেক দেশে বানিজ্যিকভাবে কবুতর পালন হচ্ছে। আজকে আমরা জনবো কিভাবে কবুতর পালন করলে লাভবান হওয়া যায়। তাহলে চলুন জেনে আশি:-
কবুতর কেন পালন করবেন:-কারন আমাদের দেশের জলবায়ু ও পরিবেশ কবুতর পালনের জন্য বেশ উপযোগী।কবুতর নিরীহ ও শান্ত প্রাণী এবং খুব সহজেই পোষ মানে।আর আর্থিক দিক চিন্তা করলে দেখা যায় এক জোড়া কবুতর প্রতি বছর ১৩ জোড়া পর্যন্ত বাচ্চা দিয়ে থাকে।
কবুতরের গোস্ত সুস্বাদু ও বলকারক যার কারনে ডাক্টারেরা সদ্য রোগমুক্ত ও প্রসব পরবর্তী ব্যক্তির জন্য কবুতরের গোস্ত পথ্য হিসেবে লিখে থাকেন।কবুতর পালনের মাধ্যমে একজন বেকারের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয় একজন মহিলাও কবুতর পালন করতে পারেন।
কবুতরের ঘর তৈরির নিয়ম:-আমরা যদি লাভজনক ভাবে কবুতর পালন করতে চাই তাহলে কবুতরের ঘর তৈরি বা কবুতরের খোপ বানানো খুবই জরুরী। আগে আপনাকে ঠিক করে নিতে হবে আপনি কোন পদ্ধতিতে কবুতর পালন করবেন। যদি আপনি আবদ্ধ অবস্থায় কবুতর পালন করেন তাহলে এক ধরনের বাসস্থান তৈরী করতে হবে। আর মুক্ত বা খোলা ভাবে কবুতর পালন করলে আরেক ভাবে বাসস্থান তৈরী করতে হবে।
আবদ্ধ অবস্থায় কবুতর পালনের ঘর তৈরির নিয়ম:-আপনি যদি আবদ্ধ অবস্থায় কবুতর পালন করেন তাহলে ঘর তৈরির সময় মাথায় রাখতে হবে সেখানেই যেন তাদের খাবার ও পানি সরবরাহ করা যায়। এবং ঘর বা খোঁপ সহজে পরিষ্কার ও জীবানুমুক্ত করার সুযোগ-সুবিধা থাকে। ঘরে যাতে পর্যান্ত সূর্যালোক প্রবেশ ও বায়ু চলাচল করার সুযোগ থাকে।
একজোড়া কবুতরের জন্য খোঁপের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা হবে যথাক্রমে ৪৫, ৩০ ও ৩০ সে.মি. (১৮, ১২, ও ১২ ইঞ্চি) রাখতে হবে। তবে আবদ্ধ অবস্থায় পালনের জন্য জায়গা বেশি রাখলে ভাল। যেমনটা নিচের ছবিতে দেখছেন।
মুক্ত অবস্থায় কবুতর পালনের ঘর তৈরির নিয়ম:-এ অবস্থায় কবুতর পান করলে ঘর তৈরির ক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে ঘরটা যেন ছায়াযুক্ত ও উচুঁ যায়গায় হয়। কেননা এ অবস্থায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কবুতরের ঘর বাহিরে রাখা হয়। এবং ঘর বা খোঁপ সহজে পরিষ্কার ও জীবানুমুক্ত করার সুযোগ-সুবিধা থাকে। ঘরে যাতে পর্যান্ত সূর্যালোক প্রবেশ ও বায়ু চলাচল করার সুযোগ থাকে। একজোড়া কবুতরের জন্য খোঁপের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা হবে যথাক্রমে ৪৫, ৩০ ও ৩০ সে.মি. (১৮, ১২, ও ১২ ইঞ্চি) রাখতে হবে। যেমনটা নিচের ছবিতে দেখছেন।
কবুতরের জাত নির্বাচন:- কবুতর পালনের আগে আপনাকে কবুতরের জাত নির্বাচন করে নিতে হবে। আপনি কোন জাতের কবুতর পালন করবেন। তবে বাংলাদেশের জন্য সব থেকে ভাল হয় দেশি জাতের কবুতর পালন করা। কারন তারা এ দেশের আবহাওয়ার সাথে আগে থেকেই মানানসই।
এখানে কয়েক ধরনের কবুতরের জাতের নাম উল্লেখ করা হলো:-গিরিবাজ, জালালি,গোলা ও সিরাজি। বিদেশি জাতগুলো হলো-কিং, ফ্যানটেল (ময়ূরপঙ্খি), জাকোবিন, মুকী, টিপলার, ফ্রিলব্যাক ও গ্যালাতী রোলার।
কবুতর জোড়া লাগানোর উপায়:- মাত্র ১ সপ্তাহ আলাদা জায়গার ২ টা স্ত্রী-পুরুষ কবুতর একত্রে রাখলে এদের মধ্যে ভাব ও মিলন হয় এবং একত্রে জোড় বাঁধে। এ জন্য আলাদা কোন খাঁচায় রাখলে ভাল হয়। একটি স্ত্রী কবুতর প্রতিবার দুটি করে ডিম দেয়। কবুতরের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে ১৭-১৮ দিন সময় লাগে। কবুতর সাধারণত ১৬-২০ বছর বেঁচে থাকে।
কবুতরের খাদ্য:- কবুতরের জন্যেই সুষম খাবারের প্রয়োজন। খাবারে শর্করা, চর্বি, আমিষ, খনিজ ও বিভিন্ন ভিটামিন উপাদান থাকা প্রয়োজন। এরূপ মিশ্রিত সুষম খাদ্যে ১৫-১৬ % ক্রুড প্রোটিন থাকবে। প্রতি কেজি খাদ্যে বিপাকীয় শক্তি ২৫০০-২৬০০ ক্যালোরি থাকা দরকার। তাছাড়া বিশুদ্ধ পানি যথেষ্ট পরিমাণে সরবরাহ করতে হবে। সাধারণত একটি কবুতর দৈনিক তার দেহের ওজনের দশ ভাগের একভাগ পরিমান খাবার খায়। এ হিসাবে বিভিন্ন বয়সে কতবুতর দৈনিক ২০-৯০ গ্রাম খাবার খায়।
কবুতর সাধারণত যেসব খাবার খাবার খায় তা হলো ধান, গম,মুশুর,খেসারি, মটর, ভূট্টা, সরিষা, বিভিন্ন কলাই ইত্যাদি দানাদার শস্য খেয়ে থাকে। যারা মুক্ত অবস্থায় কবুতর পালন করেন তারা মাঠপর্যায়ে কবুতর ছাড়ার আগে প্রতিদিন গম, কলাই ও সরিষার মিশ্রণের খাবার তৈরি করে দৈনিক ২০ গ্রাম হারে খাওয়ালে উৎপাদন ভালো হয়।
কবুতরের বাচ্চার দ্রুতবৃদ্ধি, হাড় শক্ত ও পুষ্টি প্রাপ্তির জন্য এবং পূর্ণবয়স্ক কবুতরের ডিমের খোসাশক্ত হওয়ার জন্য ঝিনুকের খোসা, চূন, চুনাপাথর, শক্ত কাঠ কয়লা চূর্ণ, হাড়ের গুঁড়া, লবণ এসব একত্রে মিশিয়ে গ্রিট মিকচার তৈরি করে খাওয়ানো প্রয়োজন। এছাড়া প্রতিদিন কিছু কাঁচা শাকসবজি কবুতরকে খেতে দিতে হবে। আর বতর্মানে বাজারে কবুতরের খাদ্য রেডিমেট কিনতে পাওয়া যায়।
এটা প্রথম পর্ব ২য় পর্ব দেখতে আমাদের সাথেই থাকুন।