টাইমস বাংলা নিউজ২৪.কম ইসলামিক ডেস্ক:-সুপ্রিয় সমাধানের দর্শক মন্ডলী আচ্ছালামু আলাইকুম। আশা করি মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে সবাই ভাল আছেন। আপনাদের ভাল থাকা আর ভাল লাগাকে সঙ্গে নিয়েই নতুন আরো একটি ইসলামি আলোচনায় ওয়েলকাম জানাচ্ছি। হযরত বিশর হাফী (রহঃ) একজন ওলীআল্লাহ্ ছিলেন।
জীবনের প্রথমভাগে তিনি শরাব পানে অভ্যস্ত ছিলেন। সেই যুগে একদা তিনি শরাবখানার অর্থাৎ মদের আডডাখানার দিকে যাচ্ছিলেন পথের মধ্যে বিস্মিল্লাহ্ শরীফ লিখিত একখণ্ড কাগজ তার নজরে পড়ল। তিনি কাগজটা হাতে তুলে ভক্তির সহিত চোখে লাগাইলেন,কাগজের ময়লা পরিষ্কার করে চুমা খেলেন।
অতঃপর এক পাক জায়গায় আদবের সহিত রেখে নিজে শরাবখানায় চলে গেলেন। সেখানে শরাব পান করে তিনি নেশায় বিভোর হয়ে পড়ে রইলেন। অপরদিকে আল্লাহ্ তা'আলার তরফ হতে সেই যুগের সর্ব শ্রেষ্ঠ ওলীআল্লাহ্ হযরত হাসান বছরী (রহঃ)-এর প্রতি গায়েবী নির্দেশ হলো শীগগীর অমুক শরাবখানায় গিয়ে বিশর হাফীকে আমার পক্ষ হতে খোশশখবর দাও, আর আমার রহমতের দরজায় তাকে তুলে আন।
বাস্তবিকই,আল্লাহর রহমতের নজর যার প্রতি এক বার পড়ে, সে এমনিভাবেই গোমরাহীর অতল হতে হেদায়েতের রাজপথে এসে দাঁড়ান।গায়েবী নির্দেশ অনুযায়ী হযরত হাসান বছরী (রহঃ)ঐ শরাবখানায় গিয়ে উপস্থিত হলেন। যুগশ্রেষ্ঠ ওলীআল্লাহ্ হযরত হাসান বছরী (রহঃ)- শরাবখানায় আগমন লোকেরা স্তম্ভিত।
অনেকেই জিজ্ঞাসা করিল, হুযূর! এখানে এই নোংরা পরিবেশে,পাপের আডডাখানায় আপনার কি উদ্দেশ্যে আগমন? কবির ভাষায়ঃ শীগগীর এই পাপের পরিবেশ হতে নিষ্কলুষ থাকিতেই বাহির হইয়া যান;অন্যথায় পানাসক্ত পাপীদের সঙ্গ আপনার পূত-পবিত্র চরিত্রকে কলুষিত করিয়া ফেলিতে পারে।
তাহাদের কথার জওয়াবে হযরত হাসান বছরী (রাঃ) বললেন, তোমরা ঠিকই বলেছো কিন্তু আমি তো নিজ ইচ্ছায় আসি নাই যে,নিজ ইচ্ছায় চলে যাব।আল্লাহ তা'আলা আমাকে এখানে পাঠিয়ে দিয়েছেন বিশর হাফীকে নেওয়ার জন্য সে কোথায় আছে? লোকেরা বিশর হাফীর সন্ধান দিলে হযরত হাসান বছরী (রাঃ) সেখানে গিয়ে দেখলেন, বিশর হাফী নেশায় মাতাল হয়ে পরে রয়েছেন।
হুঁশ ফিরলে তাকে সঙ্গে নিয়ে হযরত হাসান বহুরী (রহঃ) ফিরে আসলেন এবং বিশর হাফীকে উক্ত খোশখবর শোনালেন। এমন সময় বিশর হাফীর উদ্দেশ্যে গায়েবী আওয়াজ আসল-হে বিশর! তুমি আমার নামের সম্মান করেছো,আমিও তোমার মর্যাদা উন্নত করে দিলাম; আর তুমি আমার নামকে ময়লামুক্ত করেছো, তার প্রতিদানে আমি তোমাকে পাপমুক্ত এবং সুগন্ধ যুক্ত করলাম।
প্রতিদানে বেহেশতের বালাখানাঃ
আসরারুল আবরার’ কিতাবে হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) - এর পুত্র হযরত আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, মহানবী (সাঃ) বলেছেন, বেহেশতে জাবালে রহমত’নামে একটি পাহাড় আছে। সেই পাহাড়ের শৃঙ্গদেশে একটি বিরাট সুরম্য নগরী,তার নাম বাইতুস সালাম। সেই নগরীতে নির্মিত হয়েছে এক মনোরম বালাখানা যার নাম‘কাছরুসসুরুর'বা প্রমোদ-ভবন।
সেই বালাখানায় এমন একটি কামরা বা রয়েছে যার দরজা রয়েছে চার সহস্র এবং কামরাটির নাম বাইতুল জালাল’যাহারা ভক্তিভরে নিয়মিতভাবে বিসমিল্লাহ শরীফ পাঠ করবে তাদেরকে ঐ বালাখানা দান করা হবে। সেখান থেকে তারা বিনা আড়ালে বিনা আয়াসে যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছা করবে, সেই দরজা দিয়েই আল্লাহ তা'আলার দীদার' হাসিল করিবে। তারা অহরহ মহা আল্লাহ তায়ালার দর্শন লাভ করতে থাকবে।
বেহেশতে চারিটি নহরঃ
তাইসীর প্রভৃতি মোতাবার ও নির্ভরযোগ্য কিতাবে লিখিত মহানবী (সাঃ)-মেরাজের রাত্রিতে নানা প্রকার অলৌকিক রহস্যময় ব্যাপার অবলোকন করতে করতে বেহেশতে গিয়ে পৌঁছালেন। সেখানে চারটি নহর দেখতে পান,যার কথা পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে।
অর্থাৎ,বেহেশতে প্রবাহিত হচ্ছে দুর্গন্ধমুক্ত নির্মল স্বচ্ছ পানির নহর, অপরিবর্তনীয় স্বাদ-বিশিষ্ট দুধের নহর, পানকারীদের তৃপ্তিদায়ক শরবতের নহর, আর স্বচ্ছ মধুর নহর। এই প্রবাহমান নহরগ দেখে নবী করীম (সাঃ) সফরের সাথী হযরত জিবরাঈল (আঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন এই নহরগুলোর উৎস কোথায় এবং কোথায় গিয়ে এই নহরগুলি মিলিত হহয়েছে।
উত্তরে জিবরাঈল (আঃ) বললেন আমি এতটুকু জানি যে, এই নহরগুলো‘হাউজে কাউসার'এর সহিত মিলিত হয়েছে, তবে কোথায় এর উৎস, কোথায় এর উৎপত্তি, কিছুই আমার জানানেই।
মহানবী (সাঃ) ও জিবরাঈল (আঃ)- এর মধ্যে আলোচনা চলছিল এমন সময় অপর এক ফেরেশতা সেখানে এসে নবী করীম (সাঃ) – কে সঙ্গে উঠিয়ে নিয়ে মুহর্তের মধ্যে বহু মুঞ্জিলের দূরত্ব অতিক্রম করে একটি বৃক্ষের ছায়ায় উপবেশন করালেন।
মহানবী (সাঃ) দেখলেন, বৃক্ষটির মূলের মধ্যে সাদা রঙের একক একটি মতির তৈরি এক বিরাট গম্বুজ। এটা এতই বড় যে,এর চূড়ায় সারা পৃথিবীকে তুলে দিলে বিরাট বৃক্ষের শীর্ষদেশে কোন একটি ডালে উপবিষ্ট ক্ষুদ্র একটি পাখীর মতই মনে হতো। সে গম্বুজের দরজা‘যবরজদ’ নামক মহামূল্যবান পাথরের তৈরি; তার তালা স্বর্ণের আর চাবী বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
মহানবী (সাঃ) গম্বুজের দরজায় পৌছে বিসমিল্লাহ শরীফ পাঠ করলেন, আর অমনি তালা খুলে গেল। তিনি গম্বুজের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেন। দেখলেন,এর চার কোণ হতে চারটি নহর জারী আছে। গম্বুজের এক কোণে“বিসমিল্লাহ'আর এক কোণে‘আল্লাহ’ তৃতীয় কোণে‘আররাহমান এবং চতুর্থ কোণে‘আররাহীম'লেখা আছে বিস্মিল্লাহর‘মীম’হইতে পানির নহর।
আল্লাহ’র শব্দের'হা'হতে দূধের নহর,রাহমান’শব্দের‘নূন' হতে শরবতের নহর এবং রাহীম' শব্দের-মীম,হতে মধুর নহর প্রবাহিত হচ্ছে মহানবী (সাঃ) উৎসুক নয়নে এই দৃশ্য দেখিতেছিলেন, এমন সময় গায়েবী আওয়াজ আসল- হে মুহাম্মদ (সাঃ) আপনার উম্মতের যে ব্যক্তি বিসমিল্লাহ পাঠ করিবে, সে পরকালে এই সমস্ত নহর হইতে বঞ্চিত হবে না।